নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই সরকারি রাস্তার ব্লক সরিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ভাসমান তেল পাম্প স্থাপন এবং জাহাজ-বাল্কহেড নোঙর করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভারী এসব নৌযানের মোটা রশি নদীর পাড়ের বিভিন্ন খুঁটি ও স্থাপনার সঙ্গে বাঁধার কারণে ওয়াকওয়ের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও ম্যানহোলও ক্ষতিগ্রস্ত ও বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাউজিং, আটি গ্রাম ও আজিবপুরসহ আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা সিটি করপোরেশনের ড্রেনের মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীর পাড়ের স্থাপনা ও সড়ক ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের একটি খুঁটির সঙ্গে জাহাজের মোটা রশি বাঁধা ছিল। পরে ভাসমান পাম্পের টানে ওই খুঁটি ভেঙে যায়। এতে ওয়াকওয়ের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি একটি ম্যানহোল নদীতে পড়ে যায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেয়ালের আরও বড় অংশ ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী মাহফুজ জানান, সরেজমিনে গিয়ে ভাসমান পাম্প অবৈধভাবে রশি দিয়ে বাঁধা এবং এর কারণে ওয়াকওয়ের একটি খুঁটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তারা দেখতে পেয়েছেন। একই সঙ্গে রাস্তার একটি ম্যানহোল নদীতে পড়ে যাওয়ার বিষয়টিও নজরে এসেছে।
তিনি জানান, অবৈধভাবে রাখা ভাসমান পাম্প সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাম্প অপসারণ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঘটনার তিন দিন পর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সিটি করপোরেশনের প্রোকৌশলী মাহফুজ বলেন, সরকারি রাস্তার ব্লক সরিয়ে ওই স্থানে ৮ ইঞ্চি সিসি ঢালাই দিয়ে তিনটি কলাম বসিয়ে মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। তবে এতে কোনো ক্ষতি হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নৌ পুলিশেরও নজরদারি রয়েছে। নৌ পুলিশের ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা সংশ্লিষ্টদের কাছে গিয়ে জাহাজ ও বাল্কহেডের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টরা কাগজপত্র ঠিক আছে বলে দাবি করলেও নৌ পুলিশকে কোনো কাগজপত্র দেখানো হয়নি।
এরপর থেকে সংশ্লিষ্টরা তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর থাকা ভাসমান পাম্পের মালিক সাগরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ভাসমান পাম্প পরিচালনার জন্য বিআইডব্লিউটিএর অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আপনার কি সমস্যা?”
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি ঢাকায় একটি প্রোগ্রামে আছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড়ে এভাবে ভারী ভাসমান তেল পাম্প ও জাহাজ-বাল্কহেড নোঙর করে রাখায় শুধু ওয়াকওয়ের দেয়াল নয়, নদীর পাড়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
দ্রুত ভাসমান পাম্প ও নৌযানের বাঁধন অপসারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াকওয়ের দেয়াল, ম্যানহোল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি রাস্তার ব্লক সরিয়ে অনুমতি ছাড়া নির্মাণকাজ করার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দ্যা প্রেস নেওস/এফজে