ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় সাধারণ
মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায়
সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর মিশনপাড়া হোসিয়ারি সমিতির
সামনে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি
এ আহ্বান জানান।
রাজীব বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে
জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। এখন কেউ যাতে সহিংসতা বা নৈরাজ্যের
মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে
বিএনপির নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।
তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বাসে
আগুন দেওয়া বা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের
শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। বিএনপি নেতাকর্মীরা
প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কথা বলার অধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষা
করাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। রাজপথে বিএনপির নেতাকর্মীদের
উপস্থিতিকে সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হিসেবে না দেখে নিরাপত্তা ও আস্থা তৈরির
অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণে সংযমের ওপরও গুরুত্ব দেন রাজীব। তার
ভাষ্য, উসকানিতে সাড়া না দিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ করতে হবে। এমন কোনো
কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে দলের নেতৃত্ব বা সরকারের
ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এর আগে বিকেল ৩টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস ও
নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে
মিশনপাড়া হোসিয়ারি সমিতির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চাষাঢ়া ও
কালীবাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হোসিয়ারি সমিতির সামনে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে
সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, সদর থানা কৃষক দলের সাধারণ
সম্পাদক রানা মুজিব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক
সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, বিএনপি নেতা মোক্তার হোসেন
ভুঁইয়া, জুয়েল প্রধানসহ দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের
নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন