নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের পরিবেশ অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, নগরীর ঐতিহাসিক পরিচয়ের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মিলেমিশে বসবাসের ঐতিহ্যও ধরে রাখতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নগরীর ঐতিহ্যবাহী আমলাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিচিতি বহু পুরোনো। একসময় পাটশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেশজুড়ে এ নগরের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। শিল্প ও বাণিজ্যের ঐতিহ্যের পাশাপাশি এখানে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেটিও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সেই ঐতিহ্য নারায়ণগঞ্জবাসী বজায় রাখবে। নারায়ণগঞ্জে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করার যে ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য আমরা বজায় রাখব। আসুন, আজকের এই আনন্দের দিনে আমরা সেই শপথ গ্রহণ করি।”
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পূজামণ্ডপে আসার উদ্দেশ্য কেবল বক্তব্য দেওয়া নয়, বরং উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। তবে এই উৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষাও উপলব্ধি করা জরুরি। তাঁর মতে, যুগে যুগে সত্য ও মিথ্যা, শুভ ও অশুভ শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিজয়া ও শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে সেই চিরন্তন লড়াইয়ের কথাই স্মরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজার শিক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতা কিংবা আনন্দ উদযাপনে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যকে ধারণ করা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা নিতে হবে এ উৎসব থেকে। এসব মূল্যবোধ বাস্তব জীবনে ধারণ করতে পারলেই পূজার আয়োজন প্রকৃত অর্থে সার্থক হবে।
দেবী দুর্গার বিভিন্ন নাম ও প্রতীকের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে শুভের প্রতিষ্ঠার বার্তা পাওয়া যায়। একইভাবে ‘দশভুজা’ দেবীর হাতে থাকা অস্ত্রগুলোও প্রতীকীভাবে অন্যায় প্রতিরোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার তাৎপর্য বহন করে। এই আদর্শ অনুসরণ করতে না পারলে উৎসবের মূল উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আমলাপাড়া পূজামণ্ডপে নিজের আগমনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, গত বছরও পূজা শুরুর দিনে তিনি এখানে এসেছিলেন। এবারও একই দিনে উপস্থিত হয়েছেন। চাঁদের অবস্থান ও গণনার কারণে এবার পূজার আনন্দ উদযাপনের জন্য এক দিন বেশি পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন