জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপ পড়তে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের নিত্যপণ্যের বাজারে। এর প্রভাবে সবজি, মুরগি ও মাছের বাজারে বাড়তি দামের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সবজির দাম চড়া থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন
ধরনের সবজি আগের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে পটল, ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা,
বেগুন, কাঁচা মরিচ ও শীতকালীন সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে।
বাজারে পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি
হচ্ছে। বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি
হচ্ছে। টমেটো ও গাজরের দাম পড়ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া পেঁপে, আলু ও পেঁয়াজের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
শীতকালীন সবজির মধ্যে শিমের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০ থেকে
২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুলার দাম কিছুটা কমে কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় নেমেছে। ফুলকপি
৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ছোট আকারের বাঁধাকপি প্রতিটি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা,
শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি
দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ টাকা এবং প্রতিটি
চালকুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও চড়া দামের প্রভাব দেখা গেছে। বাজারে
সোনালি কক প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং
ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম আরও বেশি—প্রতি কেজি ৬৭০
টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়লে মুরগি ও অন্যান্য পণ্য বাজারজাত
করার খরচও বাড়বে। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জের বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক বেশি
দামে। চাষের শিং আকারভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে
১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রুই মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০
টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে
৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০
টাকা এবং তেলাপিয়া ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়ছেন
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, একদিকে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে
নিত্যপণ্যের দামও বাড়তি। ফলে সীমিত আয়ে সংসারের বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়
বাড়লে দূরবর্তী এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসা কৃষিপণ্য ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের সরবরাহ
খরচও বাড়তে পারে। এতে সামনে সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারে আরও
চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন