নারায়ণগঞ্জ নগরীর গলাচিপা এলাকায় সিটি করপোরেশনের ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ ও গর্ত। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাসে গলাচিপা এলাকায় ড্রেন নির্মাণের
কাজ শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ড্রেন নির্মাণের জন্য সড়কের বিভিন্ন অংশ কেটে
ফেলায় চলাচলের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দীর্ঘ সময় পার
হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় সেই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড্রেনের নির্মাণকাজের বেশিরভাগ অংশ শেষ
হয়েছে। তবে ড্রেন নির্মাণের পর সড়ক সংস্কার বা মেরামতের কাজ এখনও করা হয়নি। ফলে কোথাও
কোথাও বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব স্থানে পানি জমে পরিস্থিতি আরও
খারাপ হয়ে পড়ে। পথচারী, রিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ড্রেন নির্মাণের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হলেও দীর্ঘদিন
ধরে সড়ক মেরামতের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণকাজের
জন্য নিয়োজিত কোনো শ্রমিক বা কর্মীকেও এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এতে কাজটি কবে শেষ হবে
এবং সড়কটি কবে স্বাভাবিক হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় প্রথম
থেকেই আমরা দুর্ভোগ মেনে নিয়েছি। কিন্তু এত মাস পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হচ্ছে না। ড্রেনের
কাজ প্রায় শেষ হলেও রাস্তা ঠিক না করায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও উঁচু-নিচু হয়ে
থাকায় হাঁটাচলা করাও কষ্টকর। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের নিয়ে চলাচলে সমস্যা
হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)
নূর কুতুবুল আলম বলেন, ড্রেন নির্মাণকাজের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। কাজ কেন বন্ধ
রয়েছে এবং সড়ক মেরামতের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ড্রেন নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ শেষ করে
সড়কটি সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের
দ্রুত মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন