মন্দিরে পৌঁছে
শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পূজামণ্ডপ
পরিদর্শন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার
সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান
প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরে সড়কপথে
বাসযোগে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা
বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর সফর ঘিরে
রংপুর নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সফর সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি
নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও নগর সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম জোরদার করেছে সিটি
করপোরেশন।
প্রধানমন্ত্রীর
আগমন উপলক্ষে রংপুর নগরীকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন
সড়ক ও সড়ক বিভাজক পরিষ্কার করে রং করা হয়েছে। বিভাজকে লাগানো হচ্ছে ফুলের গাছ।
নগরীর প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাত দখলমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন
বিলবোর্ডে সিটি করপোরেশন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শারদীয় দুর্গোৎসব কমিটি,
সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে
শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর
যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত সড়কগুলোতেও সংস্কারকাজ চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ডিসির
মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হয়। এসব
কার্যক্রম তদারকি করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব
অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।
এদিকে ভাওয়াইয়া
গানের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ রংপুরে প্রধানমন্ত্রীকে গানে গানে বরণ করার প্রস্তুতি
নিয়েছেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) মহানগর ও জেলা শাখার
শিল্পীরা। এ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদও।
প্রধানমন্ত্রীর সফর
সফল করতে জেলা ও মহানগর বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা
দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল, জিয়া সংসদসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও
সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নেন।
রাজধানীর বাইরে
রংপুরের মতো অঞ্চলে দুর্গোৎসবের সময় প্রধানমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্যোগকে
ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, এই
সফরের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা আরও জোরালো হবে।
নগরীর আনন্দময়ী
সেবাশ্রম মন্দিরের পূজামণ্ডপে কথা হয় সুবাস চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, “এর আগে
প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে দেখিনি। এবার তিনি রংপুরে
আসছেন, এটি আমাদের জন্য পরম পাওয়া। আমরা ভীষণ আনন্দিত।”
শ্রী শ্রী কালীবাড়ী
মন্দিরে দুর্গোৎসবে আসা জীবন ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরে এসে তাঁদের সঙ্গে
কুশল বিনিময় করবেন এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন—এটি তাঁদের জন্য আনন্দের বিষয়।
তাঁকে কাছ থেকে দেখার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছেন। সফরটি আনন্দময় ও সম্প্রীতিপূর্ণ
হোক, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
রাধা গোবিন্দ
মন্দিরের সভাপতি পার্থ বোস বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মন্দিরে আসছেন, এতে তাঁরা
অত্যন্ত আনন্দিত। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কীভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন করা হয়, তা
তিনি সরেজমিনে দেখতে পারবেন। পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গে তাঁর কুশল বিনিময় স্থানীয়দের
জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।
প্রধানমন্ত্রীর
সফরকে কেন্দ্র করে রংপুরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা
গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানস্থল
পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। সফর ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিও
জোরদার করা হয়েছে।
রংপুরের জেলা
প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ
পরিদর্শনের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের
শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। তাঁর সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ
প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর
ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর সিটি
করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী
ডন।
তিনি বলেন, বিশেষ
করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা
যাচ্ছে। সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে তিনি
রংপুরে এসেছেন। এতে তাঁরা আনন্দিত।
রংপুরের উন্নয়ন
প্রসঙ্গে মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী রংপুরের উন্নয়নে ১
হাজার ৮০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। পাশাপাশি জেলার ছয়টি সংসদীয়
আসনে আরও ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন,
রংপুরের উন্নয়নে ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা
বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে বলে তাঁরা আশা
করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই
সফরকে কেন্দ্র করে রংপুর নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের
প্রত্যাশা, দুর্গোৎসবে তাঁর অংশগ্রহণ ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারের পাশাপাশি
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে
নিয়ে আসবে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন