নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি ভাড়া ঘর থেকে নাদিম আকন্দ (৩৬) নামে এক শ্রমিকের বস্তাবন্দী ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর দুই হাত বাঁধা এবং গলায় রশি পেঁচানো ছিল।
শুক্রবার
(১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যভান্দী
গ্রামের বাতেনের ভাড়া দেওয়া একটি টিনের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত
নাদিম আকন্দ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তর জাঙ্গালিয়া গ্রামের জসিম
উদ্দিনের ছেলে। তিনি আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের কালিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায়
থাকতেন এবং স্থানীয় একটি মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কালিবাড়ি এলাকা
থেকে নিখোঁজ হন নাদিম। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার সকালে
দড়ি সত্যভান্দী গ্রামের একটি ভাড়া ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় লোকজনের
সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে
বস্তাবন্দী অবস্থায় নাদিমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
উদ্ধারের
সময় নাদিমের দুই হাত বাঁধা এবং গলায় রশি পেঁচানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া
ঘরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছাপ পাওয়া গেছে। এসব আলামতকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার
তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যে ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে হাকিম
মোল্লা নামের এক ব্যক্তি ভাড়া থাকতেন। তাঁর বাড়ি নড়াইল জেলায়। নিহত নাদিমের স্ত্রী
খাদিজার সঙ্গে হাকিমের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগের
সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা
হচ্ছে।
ঘটনার পর
থেকে হাকিম মোল্লা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁকে শনাক্ত ও খুঁজে বের
করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
আড়াইহাজার
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, ভাড়া ঘর থেকে এক
শ্রমিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর দুই হাত বাঁধা এবং গলায় রশি
পেঁচানো ছিল। এ ছাড়া ঘরের বাইরে রক্তের ছাপ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও
জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল
(ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের
প্রক্রিয়া চলছে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন