নারায়ণগঞ্জের বন্দরের
মদনপুরে ‘একতা সমবায় সুপার মার্কেট’-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে
উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কেটের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতাদের অভিযোগ, একটি
পক্ষ বহিরাগত লোকজন নিয়ে সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর করেছে এবং পরে
মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের
হস্তক্ষেপ চেয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেছেন সমিতির নেতারা। তাদের
দাবি, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিবন্ধিত ও বৈধ
কমিটির মাধ্যমে মার্কেট পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক
আব্দুল মতিনের দাবি,
২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে হীরা লাল দাস, আমিনুল ইসলাম, এসহাক কবির ও তাওলাত হোসেনের
নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় বর্তমান কমিটির
সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি কার্যালয়ের সিসিটিভি
ক্যামেরা এবং বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময়
কার্যালয়ে থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণও ওই
পক্ষ নিয়ে নেয় বলে দাবি করেন তিনি।
সমিতির নেতারা জানান, ‘একতা সমবায়
সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি’ ২০০০ সালে সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত
হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নম্বর ৩৩৬।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে
১৯৯৭ সালে মদনপুর এলাকার ১০১ জন ব্যক্তি মোট ১১৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে
ওই জমির ওপর সমবায় ভিত্তিতে মার্কেটটি গড়ে ওঠে।
আব্দুল মতিন বলেন, সমবায়
আইন অনুযায়ী তিন বছর পরপর ১২ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নিয়ম রয়েছে। সেই
ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ১৮
জানুয়ারি পর্যন্ত।
সম্প্রতি কমিটি গঠন নিয়ে
নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। সমিতির নেতাদের
ভাষ্য, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল
কাউসার আশা সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব
দেন। তবে পরবর্তীতে ওই প্রস্তাবের বাইরে গিয়ে একটি পক্ষ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ
নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ তাদের।
বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে আগে
ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
তিনি জানান, কয়েকজন সদস্য কমিটির বৈধতা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরে অভিযোগ
করেছিলেন। তাদের দাবি, তদন্তের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা
পাওয়া যায়নি। এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলাও পরবর্তী সময়ে খারিজ হয়েছে বলে জানান তিনি।
মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এর
আগেও বিএনপি নেতা হিরনকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল বলে সংবাদ
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে খলিল মেম্বারও এ বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে
অভিযোগ করেন সমিতির নেতারা।
এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে
লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান তারা। একই সঙ্গে আবুল কাউসার আশার কাছেও বিরোধের
শান্তিপূর্ণ সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান সমিতির নেতারা।
তবে বন্দর থানায় লিখিত
অভিযোগ দিতে গিয়ে পুলিশ সেটি গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। মার্কেটের
ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ
ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,
পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন
তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনের
সঙ্গে সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সদস্য দুলাল মিয়া, জহিরুল
ইসলাম ও আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন