দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য
অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। বিএনপির আশ্রয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা সক্রিয় হয়ে
উঠেছে বলে অভিযোগ করে তিনি সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না
হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দুটি পৃথক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
এক পোস্টে অতীতের রাজনৈতিক
পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা টেনে আল আমিন ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের আওয়ামী
লীগ সরকারের সময়ের নানা কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ওই সময় লুটপাট, দখল,
অপহরণ ও সন্ত্রাসের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়নি বলে দাবি
করে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক পরিণতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে
আল আমিনের অভিযোগ,
বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি চাঁদাবাজি ও
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। বড় ধরনের চাঁদাবাজির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে
অটোরিকশা থেকে টাকা আদায়ের ঘটনাও এর মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, “সেইম
কাজ শুরু করেছে বিএনপির শেল্টারে থাকা গুন্ডা, চাঁদাবাজেরা।
টপ টু বটম সারাদেশে একই অবস্থা।”
এমপি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে
হামলা-লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এ প্রসঙ্গে তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের
স্টুডিওর কথাও উল্লেখ করেন।
তবে নিজের পোস্টে এসব
অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে কোনো মামলা কিংবা তদন্তের
তথ্য দেননি তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও
প্রশ্ন তোলেন আল আমিন। তাঁর অভিযোগ, কিছু কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব
কিংবা অন্য স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের
সহযোগিতা করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা সরকারি
দপ্তরে গিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।
একই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর
নির্বাচনী এলাকার একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ঘুষ
নেওয়ার অভিযোগও করেন আল আমিন। তাঁর দাবি, ওই অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের
মিছিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সমর্থনে পোস্টে কোনো নথি বা বিস্তারিত
তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে
ধরেন তিনি। আল আমিন বলেন,
নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করুক—এটাই তাঁর
প্রত্যাশা ছিল। তাঁর মতে, একটি নির্বাচিত সরকার মেয়াদ
পূর্ণ করতে না পারলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সরকারের প্রথম সাত মাসের
কর্মকাণ্ড দেখে তিনি হতাশ হয়েছেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, দেশের
বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া
হচ্ছে না।
তিনি লেখেন, “আমি
সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলেও চাই এ সরকার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করুক।”
আল আমিন আরও দাবি করেন, ক্ষমতাসীন
দলের পরিচয় ব্যবহার করে কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয়ে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার দায়
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই নিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা
নিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ
সদস্য এর আগেও চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা
জানিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরেও তিনি ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে থানাকে
দুই ভাগে বিভক্ত করে নতুন থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন।
সর্বশেষ পোস্টগুলোতে আল আমিন বলেন, নাগরিক
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া
না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে
সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এ পোস্টগুলোতে পাওয়া যায়নি।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন