আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক
ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল
কালাম। তাঁর অভিযোগ,
ক্ষমতায় থাকার সময়ে দলটির নেতারা প্রভাব দেখালেও প্রতিকূল
পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের পাশে না থেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার নজির রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)
চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে
অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আবুল কালাম বলেন, “সুসময়ে আসা আর দুঃসময়ে
পালিয়ে যাওয়াই তাদের ঐতিহ্য ও নিন্দিত চরিত্র।”
নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের
দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক
সংকটের সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের কথিত দুটি পরিবারকে সিংহের মতো সামনে দেখা
গেলেও শেষ পর্যন্ত তারা বিড়ালের মতো পালিয়ে যায়—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী
রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন আবুল কালাম। তাঁর দাবি, ১৯৭১
সালে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দলটির প্রধান সংকটের সময় পরিবারকে নিরাপদ রেখে
আত্মসমর্পণ করেছিলেন। একইভাবে তাঁর কন্যাও দীর্ঘ সময় দেশ শাসনের পর দলীয়
নেতাকর্মীদের বিপদের মধ্যে রেখে দেশ ছেড়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক
শক্তি হিসেবে মানতে নারাজ জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, স্বাধীনতার পর বাকশাল
প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করা হয়েছিল। পরে বিএনপির
প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন বলেও দাবি করেন
তিনি।
এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে
শুরু করে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপির
নেতাকর্মীদের ওপর গুম,
হত্যা, মামলা ও কারাবরণের ঘটনা ঘটেছে
বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল
ইসলাম আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল
ইউসুফ খান টিপু।
সমাবেশে মহানগর বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী
সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন