সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর)
বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা। পরে সেখান
থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব। বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিক
ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ,
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার
এবং বাসদ বর্ধিত ফোরামের সদস্য রুহুল আমিন সোহাগ।
বক্তারা বলেন, জ্বালানি
তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত
ভাড়ার চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ
রুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও ওঠে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ
রুটের দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৬০ পয়সা হিসাবে মূল ভাড়া
দাঁড়ায় ৪৯ টাকা ৪০ পয়সা। এর সঙ্গে ৫ টাকা টোল যোগ করলে মোট ভাড়া হয় ৫৪ টাকা ৪০
পয়সা। ফলে যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নেওয়া যেতে পারে বলে দাবি করেন
তারা।
বাসদ নেতারা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত
হিসাবের বাইরে একপর্যায়ে এই রুটে ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়েছিল। যাত্রী অধিকার
সংরক্ষণ ফোরাম ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর তা কমিয়ে ৫৫ টাকা করা হলেও আবারও ভাড়া
৬০ টাকা করার চেষ্টা চলছে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, গত পাঁচ
মাসে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিত্যপণ্যের
দাম ও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। নতুন করে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ব্যয়
বাড়লে সাধারণ যাত্রীদের ওপর এর সরাসরি চাপ পড়বে।
এ সময় অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম প্রত্যাহার, গণপরিবহনে
অযৌক্তিক ভাড়া আদায় বন্ধ, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সর্বোচ্চ
৫৫ টাকা ভাড়া কার্যকর এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা হাফপাস চালুর দাবি জানানো
হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান
বক্তারা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন