নারায়ণগঞ্জের আইইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে খাবার খাওয়ার
পর একাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে চাষাঢ়ার সুমাইয়া
বিরিয়ানি হাউজ থেকে আনা মোরগ পোলাও খাওয়ার পর অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন শিক্ষক অসুস্থ
হয়েছেন বলে দাবি বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের। তাঁদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও
রয়েছেন।
অসুস্থ শিক্ষকদের কয়েকজনের জ্বর, বমি, পাতলা পায়খানা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ কারণে গত দুই
দিন ধরে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সহকারী শিক্ষক সুবল
দেবনাথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা দেন। তিনি দাবি করেন, ওই খাবার খাওয়ার
পর শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও অসুস্থ হয়েছেন। বিষয়টি
তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দোকানের খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান
তিনি।
সুবল দেবনাথের ভাষ্য, সম্প্রতি বড় অঙ্কের বকেয়া টাকা
পাওয়ার পর সহকর্মীদের অনুরোধে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য খাবারের
আয়োজন করেন। রোববার দুপুরে ৫০ প্যাকেট মোরগ পোলাও কেনা হয়। চাষাঢ়ার বাগে জান্নাত
মসজিদসংলগ্ন সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজ থেকে খাবারগুলো নিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের অফিস
সহায়ক ইসমাইল।
সুবল দেবনাথ বলেন, খাবার খাওয়ার পরই অনেকেই অসুস্থ হয়ে
পড়েন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানও অসুস্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। নিজে অসুস্থ না
হওয়ায় বিষয়টি ফেসবুকে তুলে ধরে অন্যদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানান।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দিবা শাখায় ২৫ জন শিক্ষকের
মধ্যে মাত্র সাতজন উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থদের মধ্যে মোশারফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী,
আলমগীর কবির, রেজাউল হক, আবু সাঈদ আরমান, ফারহানা হাফিজ, আমেনা বেগম ও আজমেরী সুলতানাসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
অসুস্থতার বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.
মোস্তাফিজুর রহমান গাজী বলেন, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী,
দিবা শাখায় খাবার খাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর ফুড
পয়জনিং হয়েছে।
এ ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষক সুবল
দেবনাথ।
এদিকে বিষয়টি জানার পর সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজে গিয়ে কথা
বলেন বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ইসমাইল। তাঁর দাবি, দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে থাকা
ব্যক্তিকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অসুস্থতার বিষয়টি জানানো হলে তিনি এমন হওয়ার কথা
নয় বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে রান্নার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে
দেখার কথা জানান।
তবে শিক্ষকদের অসুস্থ হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে দোকানের
খাবারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি মানতে নারাজ সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজের
ব্যবস্থাপক বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, তাঁদের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার এমন
কোনো রেকর্ড আগে নেই। বিদ্যালয়ের একজন এসে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তারা বিষয়টি খোঁজ
নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানতে অভিযোগের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয়
পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন