দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শহীদ জিয়া হল আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা-এর অর্থায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে হলটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিতাইগঞ্জে নগরভবনের অডিটোরিয়ামে
অনুষ্ঠিত শহীদ জিয়া হলের স্থাপত্য নকশা উপস্থাপন সভায় প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরা
হয়।
সভায় স্থপতি জাহিদুল ইসলাম খান নতুন ভবনের দুটি নকশা উপস্থাপন করেন
এবং অ্যানিমেটেড থ্রিডি ডিজাইনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত স্থাপনার বিভিন্ন অংশ প্রদর্শন
করেন। তিনি জানান, নতুন কমপ্লেক্সে থাকবে ৯০০ আসনের আধুনিক অডিটোরিয়াম, ৮০টি গাড়ির
পার্কিং সুবিধা, জিয়া গ্যালারি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, মিনি থিয়েটার, মাল্টিপারপাস রুম,
সেমিনার কক্ষ, রিহার্সেল রুম, আর্ট গ্যালারি, ক্যাফেটেরিয়া, ফুডকোর্ট, পাবলিক প্লাজা,
ভিআইপি রেস্টরুম এবং নামাজের জন্য পৃথক ব্যবস্থা।
তিনি আরও বলেন, ভবনের নকশায় পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যকে গুরুত্ব দেওয়া
হয়েছে। প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জ্বালানি সাশ্রয়ী একটি
নান্দনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রকল্পটির প্রশংসা
করেন এবং নগরবাসীর সাংস্কৃতিক বিকাশে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল
কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, নাসিকের প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, সাংস্কৃতিক
ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাইনুদ্দিন
আহমাদ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম, সদর থানা
বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাবেক কাউন্সিলর দিলারা মাসুদ ময়না, নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল
ইসলাম, খেলাঘর আসরের সভাপতি জহিরুল ইসলাম এবং ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক **ফারহানা
মানিক মুনা**সহ বিশিষ্টজনরা।
নাসিক সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহীদ জিয়া হল কেবল একটি
অডিটোরিয়াম নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের অন্যতম আধুনিক সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও নাগরিক কর্মকাণ্ডের
কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন