নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার ভুইগড় কেএমএস টাওয়ারে একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিনসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত ১ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. শামীমের নেতৃত্বে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে ওই অফিস থেকে ৮০টি পাসপোর্ট, জাল সিল, ভুয়া জাতীয়
পরিচয়পত্র, একটি সুইচগিয়ার এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায়
আটক মহসিনকে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে
পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেএমএস টাওয়ারের একটি অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে
নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছিল। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের
সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই অফিসে মাদক কারবারের পাশাপাশি বিভিন্ন অনৈতিক
কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিনকে জেলা ছাত্রদলের
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনের সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচয় দেওয়া হতো।
অভিযোগ রয়েছে, দোলনসহ স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার যাতায়াত ছিল ওই অফিসে।
পুলিশ জানায়, কেএমএস টাওয়ারের তৃতীয় তলায় যে অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে,
সেটি রাশেদ নামে এক ব্যক্তি ভাড়া নিয়েছিলেন। একই ভবনে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান দোলনেরও
একটি অফিস রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
অভিযানে থাকা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বলেন,
ভবনের যে অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে সেটি রাশেদ নামে এক ব্যক্তি ভাড়া নিয়েছিলেন।
একই ভবনে ছাত্রদল নেতা দোলনেরও একটি অফিস রয়েছে। ওই অফিসে বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াতের
তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট, জাল সিল, ভুয়া
এনআইডি কার্ড ও একটি সুইচগিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক সেবনের সরঞ্জামও পাওয়া
গেছে। এসব আলামত উদ্ধারের পর আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক মহসিনকে এলাকার পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে
প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে অতীতে কী কী মামলা রয়েছে এবং উদ্ধার
করা মালামালের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা কী—তা যাচাই করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. শামীম অভিযান ও
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এরা একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে
তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এদের সঙ্গে আরও কারা
জড়িত রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কেএমএস টাওয়ারের পাশের ভবনেই নারায়ণগঞ্জ
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় রয়েছে। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার
কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন একটি স্থানে মাদক সেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায়
স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী বিভিন্ন ব্যক্তির নিয়মিত
যাতায়াতের কারণে অফিসটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে
বলে মনে করছেন তারা।
এই অভিযানের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয় গন্যমাধ্যমে
মাদক ব্যবসায়ী মহসিনের সাথে ছাত্রদল নেতা দোলনসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ভাইরাল
হয়। ছবি ভাইরালের পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা ঝড়।
অভিযানের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান
দোলনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল
রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত
তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন