জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়
নারায়ণগঞ্জে গুলিতে আহত দুই ব্যক্তি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজেদের আহত
হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তারা সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে
অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মামলার আসামিদের বিচার
দাবি করেন।
রোববার (৪ অক্টোবর)
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন
হাসান গাজী ও আল আমিন। নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১০ জনকে হত্যার ঘটনায়
করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তারা যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম সাক্ষী।
জবানবন্দিতে ৩৯ বছর বয়সী
হাসান গাজী জানান,
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ২ নম্বর রেলগেট
এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, ওই সময়
শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, ভিকি, ডিস বাবু, শাহ
নিজাম, টিটু, সাজনু ও শুভ্রসহ
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
আন্দোলনকারীদের মিছিল লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছোড়েন।
হাসান গাজী বলেন, গুলির
একটি তার বাঁ হাঁটুতে লাগে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে চিকিৎসা নিলেও তার পা
স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, চিকিৎসাধীন
অবস্থায় হাসপাতালের আশপাশে শামীম ওসমানের অনুসারীদের অবস্থানের কারণে
নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য
হন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় তার পা স্থায়ীভাবে
অক্ষম হয়ে যায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, প্রায় ২৪
বছর বয়সী আল আমিন জানান, আগে অটোরিকশা চালালেও বর্তমানে
তিনি বেকার। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জালকুড়ি ব্রিজের নিচে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ
দিয়েছিলেন তিনি।
তার ভাষ্য, একপর্যায়ে
পুলিশ ও বিজিবি আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। পরে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্য
আসামিরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে তার বাঁ পায়ের গোড়ালির ওপর
গুলি লাগে। চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি বলে
জানান।
জবানবন্দির শেষ দিকে হাসান
গাজী ও আল আমিন নারায়ণগঞ্জে ওই সময় আরও অনেক ছাত্র-জনতা হতাহত হওয়ার কথা উল্লেখ
করেন। তারা নিজেদের আহত করার ঘটনায় দায়ীদের পাশাপাশি মামলার আসামিদের বিচারের দাবি
জানান।
নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১০ জন নিহতের
ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে বিচার
চলছে। ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম
এগিয়ে চলছে এবং আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার চলছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন