নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় রূপায়ণ টাউন এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, শ্লীলতাহানি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভূইগড় রূপায়ণ টাউন এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে
এসব অভিযোগ তুলে পরিবারের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
রাজিয়া সুলতানা জানান, তার স্বামী ইরফান মিয়া একজন ব্যবসায়ী। নারায়ণগঞ্জের
শিবু মার্কেট এবং নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন সোনার বাংলা মার্কেটে ‘কিং স্যানেটারি’ নামে
তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন
ব্যক্তি তার স্বামীর কাছে বিভিন্ন সময় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ
করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে রাজিয়া সুলতানা দাবি করেন, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি
জানানোর কারণে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি ভূইগড় রূপায়ণ টাউনে তার বাসায়
গিয়ে তাকে একা পেয়ে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে
ধরার অভিযোগও করেন তিনি। হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করেন
এবং তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলেও অভিযোগে
উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ২১ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান রাজিয়া। তবে অভিযোগ করার পরও তাকে ও তার পরিবারের
সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রাজিয়ার অভিযোগ, সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুপুরে আপস-মীমাংসার কথা বলে
তাকে, তার স্বামী ও সন্তানদের ভূইগড় রূপায়ণ টাউনের একটি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে
ফের তার স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে
চুলের মুঠি ধরে লাঠি, কাঠের ডাসা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ
করেন রাজিয়া। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্বামী ইরফান মিয়া ও দুই ছেলেকেও
মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজিয়া বলেন, হামলার একপর্যায়ে তার স্বামীর মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত
করা হয়। এতে তার ডান চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম এবং মাথায় আঘাত লাগে। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জের
৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে হামলাকারীরা পরিবারের ছোট ছেলেকে নিয়ে
যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা
হত্যার পাশাপাশি লাশ গুমের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজিয়া সুলতানা বলেন, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায়
ভুগছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় বিপ্লব, মামুন, শাহ আলম শিকদার, রাফি, নাজমুল, সাজিদ ওয়াজিদ
জয় ও জিয়াউর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ করা
হয়েছে বলে জানান রাজিয়া।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন