নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বিএনপি সমর্থিত
আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর
আড়াইটার দিকে সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আদালতপাড়ায় দায়িত্বে থাকা
পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ
আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। জেলা ও
দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির এবং অতিরিক্ত পাবলিক
প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হন। পরে তারা স্থানীয়
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের ভাষ্য, আসন্ন জেলা
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে আগে থেকেই
দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সমিতির সাধারণ
সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল
কালাম আজাদ জাকির। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক
প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির।
জানা যায়, দুপুরে সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায়
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশের কক্ষে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা খাবারের প্রস্তুতি
নিচ্ছিলেন। এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা
শুরু হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে
আপত্তি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন স্থানান্তরের বিষয়ও আলোচনায় আসে। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি
শুরু হলে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই
পক্ষের আইনজীবীদের পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি বিনিময় করতে দেখা যায়।
এ সময় সাখাওয়াত হোসেনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যকেও চেষ্টা
করতে দেখা যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, সামনে আইনজীবী
সমিতির নির্বাচন থাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ
গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আইনজীবীরা শিক্ষিত মানুষ হওয়ায় তাদের সঙ্গে কথা
বলার পর পরিস্থিতি আর বড় আকার নেয়নি।
ঘটনার বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান
অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তাঁর অনুসারীরা তাদের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালান।
তাঁর দাবি, সাখাওয়াতের লোকজন গালিগালাজ করেন এবং অতিরিক্ত
পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদে তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময়
অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন
কবির বলেন, তিনি ও সাখাওয়াত হোসেনসহ কয়েকজন তাঁর কক্ষে
খাবার খাচ্ছিলেন। পাশের কক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা উসকানিমূলক শব্দ
করছিলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনা ঘটে। তাঁর মতে, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও হতে পারে। তিনি বলেন, তাঁরা সবাই সিনিয়র আইনজীবী; তাঁদের সঙ্গে
জুনিয়রদের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের
বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, তিনি বিশ্রামে
রয়েছেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন