শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নগরীর দুই নম্বর রেলগেট এলাকার সিটি দোয়েল প্লাজার পঞ্চম তলায় সিপিবির জেলা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
জেলা সিপিবির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শিবনাথ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আঃ হাই শরীফ, শাহানারা বেগম ও বিমল কান্তি দাস। এ ছাড়া জেলা কমিটির সদস্য জাকির হোসেন ও শোভা সাহাসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ও জননেতা। ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার জমাদারপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৯৫৪ সালে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদে দীক্ষা নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি সিপিবির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি।
তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ নানা সংগ্রামে ফরহাদ সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের পেছনে যাঁরা সংগঠকের ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনিও অন্যতম ছিলেন। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
বক্তাদের ভাষ্য, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাঁকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। সাংগঠনিক দক্ষতা, পেশাদার বিপ্লবীর জীবনযাপন এবং নীতির প্রশ্নে দৃঢ় থাকার পাশাপাশি কৌশলগত বিষয়ে নমনীয়তা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের নেতায় পরিণত করে।
তাঁরা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তাঁর অনেক অবদান সাধারণ মানুষের অজানা থেকে গেছে। ১৯৭৩ সালে সিপিবির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলকে সংগঠিত করা এবং গণমানুষের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ভূমিকা রাখেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর অবদান স্মরণীয়।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ক্ষেতমজুর, শ্রমিক, ছাত্র, যুব ও নারী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণসংগঠনের কার্যক্রমে সমাজতন্ত্রমুখী গণতান্ত্রিক ধারা বিকাশে ফরহাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর মস্কোতে তাঁর মৃত্যু বামপন্থী রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা তৈরি করে, যা এখনো পূরণ হয়নি বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভা থেকে ঘুষ-দুর্নীতি, লুটপাট, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগ্রামের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতারা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন