রোববার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক মামলাটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাত খুনসহ দেশের কয়েকটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের পর এসব মামলা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের চলমান অবকাশকালীন ছুটি শেষে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলে এগুলোর শুনানি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
যেভাবে আলোচনায় আসে সাত খুন
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে একই ঘটনায় সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তোলে। অপহৃতদের মধ্যে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার।
এ ছাড়া নজরুল ইসলামের সহযোগী তাজুল ইসলাম, স্বপন, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন উদ্ধার করা হয় সপ্তম ব্যক্তির মরদেহ।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। তদন্তে র্যাব-১১-এর তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে। মামলায় তৎকালীন কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়।
বিচারিক আদালতে ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল সাত খুনের ঘটনায় করা দুটি মামলায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাইকোর্টে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল হাইকোর্টে আসে। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। অন্য ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আসামিরা আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী ১৭ নভেম্বরের নির্ধারিত শুনানিকে ঘিরে এখন সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন