প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ
নারায়ণগঞ্জের সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড। এ সময়েও শ্রমিকদের চাকরির অবসান, ছাঁটাই ও
অন্যান্য আইনানুগ পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় দ্রুত সমাধানের দাবিতে বিভাগীয় শ্রম
দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন কারখানাটির শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)
দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের রেজিস্ট্রার্ড অব ট্রেড
ইউনিয়নসের শ্রম পরিচালক বরাবর স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়।
সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড
শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস
শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ
সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহসাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন
সোহাগসহ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
স্মারকলিপিতে শ্রমিক নেতারা
অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন শ্রমিক ইউনিয়ন ও কর্মীদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই কারখানাটি
বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে শত শত শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। প্রায় তিন
মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
নেতাদের ভাষ্য, কারখানা
বন্ধের নোটিশে শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তা
কার্যকর হয়নি। তাদের কাছে কারখানাটি অন্য একটি শিল্পগোষ্ঠীর কাছে বিক্রির তথ্য
রয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। তবে মালিকানা বা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন
হলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন
তারা।
কারখানা চালু এবং শ্রমিকদের
অধিকার নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি জানিয়ে গত ৩০ জুন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানায়
শ্রমিক ইউনিয়ন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিল্প পুলিশ, বিকেএমইএ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিভাগীয়
শ্রম দপ্তর এবং ফতুল্লা মডেল থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতারা জানান, বিষয়টি
নিয়ে গত ১৮ আগস্ট বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় শুনানির আয়োজন করা হলেও
সেখানে মালিকপক্ষ অংশ নেয়নি। পরে ৩০ আগস্টের মধ্যে বকেয়া পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি
দেওয়া হলেও সেই সময়সীমার মধ্যেও শ্রমিকদের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এরপর ২৪
সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেন তারা।
স্মারকলিপিতে শ্রমিকদের
পাওনা নির্ধারণ করে দ্রুত পরিশোধ, চাকরির অবসান বা ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে আইনানুগ
ক্ষতিপূরণ, পাওনা পরিশোধ এড়িয়ে মালিকানা পরিবর্তনের
মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন না করা এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে
সংকট নিরসনের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া প্রতিশ্রুতি
বাস্তবায়নে ব্যর্থতার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন
নেতারা।
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলেন, পাওনা
আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। একই
সঙ্গে দ্রুত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে বিভাগীয় শ্রম দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন