নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়
ইউনাইটেড অ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেডের কারখানা খুলে দেওয়া, সাময়িক
বরখাস্ত হওয়া ৪৩ শ্রমিককে কাজে ফেরানো এবং শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা ও সুযোগ-সুবিধা
নিশ্চিত করার দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে
গাবতলী টাগারপাড় এলাকায় কারখানার সামনে থেকে মিছিল বের করেন তারা। পরে মিছিলটি
চাষাঢ়ায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে
অবস্থান নেয়। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শ্রমিকরা।
সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্ট
ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ
শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জাগো বাংলাদেশ
গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা কমিটির সভাপতি গাজী নূরে আলম এবং ইউনাইটেড
অ্যাপারেলসের শ্রমিক মিলন, নূর নবী, সজিব, সাবিনা ও তানিয়াসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন
ধরে কারখানাটিতে শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। ছুটি ও অন্যান্য আইনগত সুবিধা
থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রাখা
হচ্ছে তাদের।
তাদের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে
কোনো শ্রমিক একদিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে তিন দিনের হাজিরা কেটে নেওয়া হয়। এ নিয়ে
শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ তৈরি হলে গত মঙ্গলবার রাতে শ্রম আইনের ১৩(১)
ধারা উল্লেখ করে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন সকালে
কাজে গিয়ে শ্রমিকরা কারখানার ফটকে তালা দেখতে পান।
পরে সমস্যা সমাধানের দাবিতে
শ্রমিকরা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অধিদপ্তরের
পক্ষ থেকে সোমবার (৫ অক্টোবর) ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস
দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তারা।
এর মধ্যেই রোববার সকালে
কারখানার ফটকে ৪৩ শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ ঝোলানো হয় বলে অভিযোগ করেন
শ্রমিকরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ আরও বাড়লে তারা ফের বিক্ষোভে নামেন।
বিকেল ৩টার পর শ্রমিকরা
মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নেন। পরে বিকেএমইএ সভাপতি, জেলা প্রশাসক
এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শকের মধ্যে আলোচনা হয়।
আলোচনার পর সোমবার বিকেল ৩টায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে
শ্রমিক নেতারা জানান।
বৈঠকের মাধ্যমে সংকট নিরসনের
আশ্বাস পাওয়ার পর দিনের কর্মসূচি শেষ করে ফিরে যান শ্রমিকরা।
শ্রমিক নেতারা জানান, সোমবারের বৈঠকে কারখানা
পুনরায় চালু, ৪৩ শ্রমিকের সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার এবং
শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে
পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন