জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের
মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন
দেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা
এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একনেকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন
ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্পের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্প
অনুমোদন পেয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাভুক্ত নতুন পাঁচটি
অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। একই
সঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত
সড়ক পুনর্বাসনের জন্য পৃথক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত
নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা
সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি
গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন
পেয়েছে।
পরিবহন ও যোগাযোগ খাতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে
একনেক। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি)
জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণের তৃতীয়
সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ
সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রেলওয়ের পরিবহন সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা
মনে করছেন।
সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড়
সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে
পার্বত্য এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের
দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। বাগেরহাটের রামপালে
৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রকল্পটি
নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে কেনা
চ্যান্সারি ভবনকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রী
কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী
নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক কমিটিকে অবহিত করা
হয়েছে।
একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ
মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র
ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী
এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য
মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এ ছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন