নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লক্ষণখোলা আলহাজ্ব ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব উদ্দিনকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের বিপরীতে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, অভ্যন্তরীণ স্বার্থ ও পদ-পদবি সংক্রান্ত ক্ষোভ কাজ করছে।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক নিয়ম মেনে বিদ্যালয় পরিচালনার চেষ্টা করায় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবাদকারীরা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমির হোসেন বাদশাকে নিয়েও আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের এফডিআরের প্রায় ১০ লাখ টাকা তিনটি চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়। এ অর্থ উত্তোলনের আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। একই সময়ে টেন্ডার বা সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ না করে বিদ্যালয়ের মাটি ভরাটের কাজ করানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রতিবাদকারী শিক্ষকরা।
এদিকে বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন ঘিরে ভাড়া দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, ভবনটির পাশের একটি চায়না ফ্যাক্টরির কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায়, এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ও লেখাপড়ার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভবন একটি চায়না কোম্পানির কাছে বাণিজ্যিক কাজে ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের কাজে প্রধান শিক্ষক আপত্তি জানানোয় তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরোধিতার মুখে পড়েন।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবাদকারীরা বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজনেই সহকারী শিক্ষকদের পরামর্শক্রমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে ফেরতও দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, পুরো বিষয়টি যাচাই না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘হালিমা খাতুন আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন’ পরিচালনার বিষয়টিও সামনে এনেছেন শিক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি আমির হোসেন বাদশা এবং এ.পি.এম. হাসান মেহেদীর সম্পৃক্ততায় বহিরাগতদের মাধ্যমে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে কিন্ডারগার্টেনটি চললেও এর বিপরীতে যথাযথভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি বলেও দাবি তাদের।
প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষক এ কার্যক্রমের বিরোধিতা করায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্বার্থ এবং পাশের চায়না কোম্পানিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার পরিবেশেও।
এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন অতীতে দুই দফায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে উল্লেখ করে প্রতিবাদকারীরা বলেন, পরবর্তীতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পাওয়ার পর থেকেই বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
তবে এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং প্রধান শিক্ষককে ঘিরে চলমান বিরোধের অবসানে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
দ্যা প্রেস নিউজ//এফজে
মন্তব্য করুন