সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু বইয়ের শিক্ষা যথেষ্ট নয়, পরিবার থেকেই তার নৈতিক ও মানবিক ভিত্তি তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার।
তিনি বলেন, সন্তানদের
শাসনের ক্ষেত্রে শারীরিক শাস্তির পরিবর্তে তাদের বুঝিয়ে বলা এবং সঠিকভাবে সময়
দেওয়ার মাধ্যমে মূল্যবোধসম্পন্ন করে তুলতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)
সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের রহিম মার্কেট বটতলা এলাকায় ইসলামিক এডুকেয়ার একাডেমির ১০ম
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের হিফজ বিভাগের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়।
আবদুল জব্বার বলেন, শিশুদের
ভবিষ্যৎ শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দিলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—তিনটি জায়গার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সন্তানদের
সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সন্তানদের
প্রতি অভিভাবকদের আচরণ তাদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে বড় প্রভাব ফেলে। তাই কোনো ভুল
করলে মারধর না করে ভালোভাবে বুঝিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। এভাবে সন্তানদের গড়ে
তুলতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে
ফিলিস্তিনের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন আবদুল জব্বার। তিনি সেখানে নির্যাতিত
মানুষ ও শিশুদের জন্য দোয়া করেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের হাতে ফিরে আসার
জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের
প্রিন্সিপাল মো. আবু ইউসুফ পাটওয়ারী বলেন, ইসলামিক এডুকেয়ার একাডেমিতে নৈতিক
শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করা
হচ্ছে। তার মতে, শিশুর চরিত্র গঠনের প্রথম দায়িত্ব
পরিবারের এবং পরিবারের পরিবেশই সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে।
তিনি হিফজ বিভাগের নতুন ভবন
নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ
অগ্রযাত্রার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য
দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও নাসিক ২ নম্বর
ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ জামাল হোসাইন। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার
সনদ অর্জন করলেই একজন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিকতা নিশ্চিত হয় না। এজন্য
ছোটবেলা থেকেই পরিবারে সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে মাওলানা মোহাম্মদ
ফেরদৌস, মো. মাহাবুব আলম, প্রফেসর মো. আব্দুজ জাহের,
মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার, এ বি এম
সাইফুর রহমান, মো. আনিছুর রহমান ভূইয়া, মো. শাহাআলম, হাজি মো. ইব্রাহিম ও রেদোয়ান
হোসেন পাপ্পুসহ অনেকে বক্তব্য দেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা
আতিকুল্লাহ।
১০ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে
আয়োজিত অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা হামদ, নাত ও
কোরআন তেলাওয়াত পরিবেশন করে। পরে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের
মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও
মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন