নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার পর অস্বীকৃতি জানানোয় মারধর, পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাই এবং পরবর্তীতে তার চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিজেই বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের
সেলসারদী এলাকার ব্যবসায়ী মো. শাকিল বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলা
নম্বর—৩৯।
মামলার আসামিরা হলেন— জিয়াবুর রহমান, ইয়াছিন, রিপন, ইয়ামিন ও আমির
হোসেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বন্দর থানাধীন আদমপুর জিওধরা বাজারে মো.
শাকিলের ‘মেসার্স তাইয়্যিবা ট্রেডার্স’ নামে ইট, বালু ও সিমেন্টের একটি
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঘটনার আগে অভিযুক্তরা তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পাঁচ লাখ
টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও তাকে
হুমকি দেওয়া হয়।
গত ২১ অক্টোবর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বন্দর চৌধুরীবাড়ী এলাকা
থেকে ব্যবসার ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে আদমপুর জিওধরা
বাজারে ফিরছিলেন শাকিল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রোস্তমপুরের মন্টুর মুদি দোকানের
সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করেন। চাঁদা
দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহা দিয়ে তার মাথা
ও নাকে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয় এবং আরও দুজন তাকে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ
করে হত্যার চেষ্টা চালান।
এ সময় লিটন নামে এক ব্যক্তি কোমর থেকে পিস্তল বের করে শাকিলের
মাথায় ঠেকিয়ে চাঁদার টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন এবং পরে তার কাছে থাকা ব্যবসায়িক
২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শাকিলের চিৎকারে আশপাশের
লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা
তাকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাকিলের চাচাতো ভাই সোহান
(২০) কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আদমপুরের আল-করিম জামে মসজিদের সামনে পুনরায়
হামলার শিকার হন।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পথরোধ করে সোহানের ওপর হামলা চালান। এ সময়
লিটন ধারালো রামদা দিয়ে সোহানের মাথায় কোপ দিলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা প্রতিহত
করেন। এতে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর কাটা জখম হয়। পরবর্তীতে ইয়াছিন
ধারালো চাকু দিয়ে তার বাম পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশে আঘাত করেন।
এই নৃশংস হামলায় সোহানের বাম হাতে ৭টি এবং বাম পায়ে ৮টি সেলাই দিতে
হয়েছে। তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলেও
অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
পাঠান। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন